স্কুলের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা রচনা: আমাদের সকলের জীবনে এমন বেশ কিছু ঘটনা বা বিশেষ দিন থাকে যা কোনোদিনও ভোলা যায়না। এমন স্মরণীয় দিনগুলির মধ্যে আমাদের সকলেরই এক বিশেষ স্মরণীয় দিন হল স্কুলের প্রথম দিন।
Table of Contents
স্কুলের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা রচনা
ভূমিকা:
দুর অতীতকে জীবন্ত করে বর্তমানকে ভুলিয়ে দিতে চায় স্মৃতি। ভালাে লাগে অতীতের স্মৃতিচারণ করতে। স্মৃতিচারণে যে অধ্যায়টি আমার কাছে সবচাইতে আকর্ষণীয়, তা হল আমার স্কুল জীবন।স্কুল জীবন মানুষের সমগ্র জীবনের মধ্যে এক উজ্জ্বল অধ্যায়। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির চড়াই উতরাই ভাঙতে ভাঙতে আজ দশম শ্রেণিতে এসে পৌঁছেছি l কিন্তু স্কুল জীবনের প্রথম দিন বললেই স্মৃতির মন্দিরে শৈশবের ফেলে আসা দিনগুলি এমনইভাবে প্রতিভাত হয়ে ওঠে যেন কালকেরই ঘটনা; কত না সুখস্মৃতি, কত না বেদনাময় মুহূর্ত ধরা দেয় স্মৃতিতে।
প্রস্তুতিপর্ব:
এখানে প্রথম দিন আসার আগে থেকেই আমি মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলাম। মা আমায় বলেছিল পরিবেশ যেমনই হোক আমি যদি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারি তাহলে কোনভাবেই আমার খারাপ লাগবে না। অন্যদিকে নতুন বিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়ার জন্য নতুন স্কুল ব্যাগ, বিদ্যালয়ের নতুন পোশাক, নতুন জুতো মোজা, নতুন বইপত্র সবই একে একে বাড়িতে আসতে থাকলো।
সেইগুলি নাড়াচাড়া করে দেখার মধ্যে যে অদ্ভুত অনুভূতি মনের মধ্যে কাজ করতো তা বলে বোঝানো যাবে না। বিদ্যালয়ের প্রথম দিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্নান করে নতুন পোশাক পরে, নতুন বই পত্র কাঁধে নিয়ে মায়ের সাথে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলাম। মা আমাকে বিদ্যালয়ের গেটে ঢুকিয়ে দিয়ে বাড়ি ফিরে গেল।
বন্ধুদের সাথে আলাপ:
বিদ্যালয়ের গেট থেকে আমাদের স্কুলের চারজন অশিক্ষক কর্মচারী আমাদের সকল নতুন ছাত্রদের পঞ্চম শ্রেণীর সংশ্লিষ্ট বিভাগে নিয়ে গেলেন। সেখানে গিয়েই দেখতে পেলাম আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশ কিছু পুরোনো বন্ধু বান্ধব এই স্কুলেই ভর্তি হয়েছে। তাদের দেখেই মন আনন্দে নেচে উঠলো। ওদের সঙ্গে গল্প করতে করতে আলাপ হলো আরো নতুন দু’তিন জনের সঙ্গে।
এদের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু হল দেবাঙ্গন। সেই প্রথম দিন থেকে এখন অব্দি ওর সঙ্গেই আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধুত্ব। খানিকক্ষণ পরে উঁচু ক্লাসের কয়েকজন দাদাও আমাদের সাথে এসে আলাপ করে বলে গেল কোনরকম সমস্যা হলে দাদাদের জানাতে। বিদ্যালয় প্রবেশের পরই অচেনা পরিবেশের এমন অভ্যর্থনা আমার নতুন পরিবেশ সম্পর্কে আতঙ্ককে একেবারে দূর করে দিলো।
শিক্ষকদের সঙ্গে পরিচয়:
নতুন পরিবেশ সম্পর্কে অজানা আতঙ্ক দূর হয়ে গেলেও শিক্ষকরা কেমন হবেন সে বিষয়ে ভয় তখনও দূর হয়নি। বিদ্যালয়ের প্রথম দিন আমাদের মোট পাঁচটি ক্লাস হয়েছিল। প্রথম ক্লাসটি নিতে এসেছিলেন শান্তনু স্যার। তিনি এসে আমাদের সবার সঙ্গে আলাদা আলাদা করে আলাপ করলেন, নিজের পরিচয় দিলেন এবং জানালেন তিনি আমাদের বাংলা পড়াবেন।
প্রথম ক্লাসে শান্তনু স্যার আমাদের বইয়ের পড়া না পড়িয়ে একটি অত্যন্ত সুন্দর গল্প বললেন। তারপর একে একে আরও ৪ জন শিক্ষক পরপর আমাদের ক্লাস নিলেন। এদের সকলকেই আমার খুব ভালো লাগলো। যদিও সবার মধ্যে অতনু স্যারকে একটু রাগী প্রকৃতির বলে মনে হয়েছিল। তিনি আমাদের অঙ্কের শিক্ষক। অত্যন্ত সহজ সরল ভঙ্গিতে অল্প বুঝিয়ে দেওয়ার ভঙ্গিমা অতনু স্যারের প্রতি প্রথম দিনই আমার মন কেড়ে নিয়েছিল।
উপসংহার :
এটিই ছিল আমার স্কুল জীবনের প্রথম দিন, জীবনের প্রথম কোনাে স্মরণীয় মুহূর্ত। ছুটি না-হওয়া পর্যন্ত বাবা গেটের বাইরে স্কুলসংলগ্ন একটি গাছের নীচে বসেই ছিলেন। ছুটি শেষে বাইরে বেরােলে আমাকে জড়িয়ে ধরেন, স্নেহের চুম্বন দেন। কিন্তু আমি প্রথম দিনেই ক্লাসে কি কাণ্ড ঘটিয়েছি ভয়ে বলতে পারলাম না, কিন্তু আমার চোখেমুখে যেন সেই অন্যায় স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল।
বাবা আমার চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞেস করতেই সব গড়গড় করে বলে ফেললাম। দেখলাম বাবা ধমক দেওয়ার জায়গায় আমার ভুলটা বুঝিয়ে পরের দিন বিদ্যালয়ে গিয়ে পাশে বসা বন্ধুকে সকল সত্যিটা জানাতে বলেন এবং একটা নতুন স্লেটও দিয়ে দেন। আমার মন থেকে যেন অপরাধের বােঝাটা নেমে যায় ।
