দেশ রাজধানী ও মুদ্রা ভিন্ন দেশের রাজধানী ও মুদ্রা বিষয় প্রশ্ন, বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা যেমন – বিসিএস প্রস্তুতি, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ক্লাস বা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির ক্লাস (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়) সহ নানা চাকরি পরীক্ষায় এসে থাকে। আজকের ক্লাসে “আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী” এর “দেশ রাজধানী ও মুদ্রা” বিষয়গুলো থেকে কি পড়বো, কীভাবে পড়বো, কোথা থেকে পড়বো – এই জিনিসগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
Table of Contents
দেশ রাজধানী ও মুদ্রা
রাজধানী
রাজধানী একটি দেশ, রাজ্য, বা অঞ্চলের কেন্দ্রীয় শহর, যেখান থেকে দেশটির সরকার পরিচালিত হয়। সাধারণত রাজধানী শহরেই সংশ্লিষ্ট সরকারের সকল প্রকার সভা ও অধিবেশন ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে এবং এটি সাধারণভাবে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার বা আইন দ্বারা সিদ্ধ থাকে। ক্ষেত্রবিশেষে দেশ বা রাজ্যের আইনসভা বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত থাকে।

রাজধানী শব্দের ইংরেজি ক্যাপিটাল শব্দটি ল্যাটিন ক্যাপিট থেকে এসেছ যার অর্থ হল ‘প্রধান’। এছাড়াও ইংরেজি ক্যাপিটাল শব্দটি আরো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে বাংলায় রাজধানী বলতে কোনও দেশ বা রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় শহরকেই বোঝানো হয়ে থাকে। রাজধানী হতে হলে কোনও শহরকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহর না হলেও চলে, কিন্তু রাষ্ট্রটির সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম উক্ত শহরকে ঘিরেই আবর্তিত হয়।
ঐতিহাসিকভাবে কোনও রাষ্ট্রের প্রধান অর্থনৈতিক শহরটি সে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে বিবেচিত হয় এবং দেশের প্রায় সকল অংশই অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল উক্ত শহরের উপর নির্ভরশীল থাকে। যেমন, প্রাচীন বাগদাদ, প্রাচীন এথেন্স ও লন্ডনসহ বিভিন্ন শহর ছিল সংশ্লিষ্ট দেশগুলির তৎকালীন অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। তাই এ’সব শহরেই সকল প্রকার প্রশাসনিক কার্যক্রম কেন্দ্রীভূত ছিল।
মুদ্রা
মুদ্রা পণ্য বা সেবা আদানপ্রদানের জন্য একটি বিনিময় মাধ্যম। এটি অর্থের একটি ধরন। অর্থ হচ্ছে সেই সকল বস্তু যা বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কারেন্সি জোন বা মুদ্রা এলাকা হচ্ছে একটি দেশ বা এলাকা যেখানে একটি নির্দিষ্ট মুদ্রাই অর্থনীতির প্রধান বিনিময় মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অধিকাংশ দেশেই একটি নির্দিষ্ট মুদ্রা যোগান ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে একচেটিয়া প্রভাব বিস্তার করে থাকে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সদস্যরা আবার নিজেদের মাঝে অভিন্ন মুদ্রা ইউরো ব্যবহার করে থাকে।
সাধারণত একটি নির্দ্দিষ্ট সরকারের প্রচলিত মুদ্রা এবং কাগজের টাকা রাষ্ট্রটির অর্থমুদ্রার যোগানের কায়িক দিকটি সামলায়। একটি রাষ্ট্রের অর্থমুদ্রার যোগানের অন্য অংশটি ব্যাঙ্ক জমা (কখনও জমা অর্থমুদ্রা বলা হয়) দ্বারা গঠিত হয়, যার মালিকানা ধনাদেশ (চেক), ডেবিট কার্ড, বা অর্থমুদ্রা হস্তান্তরের অন্য মাধ্যমে হস্তান্তর করা যায়। জমা অর্থমুদ্রা এবং প্রচলিত মুদ্রা দুটিই আদায়ের উপায় হিসাবে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য একে অর্থমুদ্রা বলে গণ্য করা হয়।

প্রচলিত মুদ্রা রূপে অর্থমুদ্রাই মানব সভ্যতায় প্রায় ১০,০০০ BCE থেকেই প্রভুত্ব বিস্তার করতে শুরু করে। সাধারণত, নিহিত মূল্যের মোহর (সোনা বা রূপা) প্রমাণ ছিল। প্রায় সকল আধুনিক অর্থমুদ্রাতন্ত্রই রাজ-আজ্ঞা অর্থমুদ্রা (fiat money)র ওপর ভিত্তিশীল — সরকারী আজ্ঞা (রাজ-আজ্ঞা) বলতে আধুনিক প্রচলিত মুদ্রাই মূল্য লাভ করে। সাধারণত, সরকার ‘রাজ-আজ্ঞা প্রচলিত মুদ্রা’কে বিধিসম্মত মূল্যবেদন পত্র হিসাবে ঘোষণা করে (নিদর্শনস্বরূপ, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ছাপানো কাগজী মুদ্রা ও মোহর/মুদ্রা)। ফলস্বরূপ, ‘রাজ-আজ্ঞা প্রচলিত মুদ্রা’কে সরকারি বা ব্যক্তিগত সকল ঋণ পরিশোধের উপায় হিসাবে গ্রহণ না করাটা আইন বিরুদ্ধ।
