এগারোটি শিক্ষা বোর্ডে খাতা চ্যালেঞ্জে আবেদন করেছেন প্রায় দুই লাখ পরীক্ষার্থী

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অংশ নিয়েছিলেন ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬১ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৬০ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে ফলাফলে অসন্তুষ্ট অনেক শিক্ষার্থী খাতা পুনঃনিরীক্ষণের (খাতা চ্যালেঞ্জ) আবেদন করেছেন।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার মোট ১ লাখ ৯৩ হাজার ২৫৮ জন পরীক্ষার্থী মিলে ৪ লাখ ২৮ হাজার ৪৫৮টি খাতা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছেন। শনিবার (২৫ অক্টোবর) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানান, আগামী ১৬ নভেম্বর এইচএসসির খাতা চ্যালেঞ্জের ফল প্রকাশ করা হবে।

বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডে খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদনসংখ্যা নিচে তুলে ধরা হলো—

শিক্ষা বোর্ডআবেদনকারী পরীক্ষার্থী (জন)পুনঃনিরীক্ষণের খাতা সংখ্যা
ঢাকা৬৬,১৫০১,৩৬,৫০৬
বরিশাল৮,১১১১৭,৪৮৯
কুমিল্লা২২,১৫০৪২,০৪৪
রাজশাহী২০,৯২৪৩৬,২০৫
যশোর২০,৩৯৫৩৬,২০৫
চট্টগ্রাম২২,৫৯৫৪৬,১৪৮
সিলেট১৩,০৪৪২৩,৮২০
দিনাজপুর১৭,৩১৮২৯,২৯৭
ময়মনসিংহ১৫,৫৯৮৩০,৭৩৬
বিএম-ভোকেশনাল১২,০০৭
মাদ্রাসা (আলিম)৭,৯১৬১৪,৭৩৩

 

এর আগে ১৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত চলে ফল পুনঃনিরীক্ষণ বা খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন প্রক্রিয়া। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এবার শুধুমাত্র অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যান্য বছর এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন করা গেলেও এবার সেই সুযোগ ছিল না। এছাড়া কোনো শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা অন্য কোনো অফিসে সরাসরি আবেদন গ্রহণ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় ১৬ অক্টোবর। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ, যেখানে ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেয়েছেন। গতবারের ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ পাসের তুলনায় এবার হার কমেছে ১৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং জিপিএ–৫ কমেছে ৭৬ হাজার ৮১৪।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় ২৬ জুন এবং শেষ হয় ১৯ আগস্ট। স্থগিত কিছু বিষয়ের পুনঃসূচি নির্ধারণের কারণে পরীক্ষা দীর্ঘায়িত হয়। পরে ২১ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা।

Leave a Comment