অবনী বাড়ি আছো কবিতা – শক্তি চট্টোপাধ্যায়

অবনী বাড়ি আছো কবিতা – শক্তি চট্টোপাধ্যায় রচিত বারো পঙ্‌ক্তির রসোত্তীর্ণ কবিতা। এটি তার ধর্মে আছো জিরাফেও আছো কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত যা ১৯৬৫ সালের অক্টোবরে (আশ্বিন ১৩৭২ বঙ্গাব্দ) বীক্ষণ প্রকাশ ভবন কর্তৃক প্রকাশিত হয়। কবিতাটি পাঠকপ্রিয়, বহুল প্রচারিত এবং আবৃত্তির কবিতা হিসেবে ব্যপক পরিচিত।

আগস্ট ১৯৭৩ সালে শক্তি চট্টোপাধ্যায় অবনী বাড়ি আছো শিরোনামে একটি উপন্যাস প্রকাশ করেন।

 

শক্তি চট্টোপাধ্যায় (জন্ম: নভেম্বর ২৫, ১৯৩৩ – মৃত্যু: মার্চ ২৩, ১৯৯৫) ছিলেন ভারতীয় বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, লেখক ও অনুবাদক, যিনি জীবনানন্দ-উত্তর যুগের বাংলা সাহিত্যের একজন প্রধান আধুনিক কবি হিসেবে বিবেচিত। বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত এবং আলোচিত ছিলেন। ষাটের দশকে যে চারজন কবিকে হাংরি আন্দোলনের জনক মনে করা হয় তাদের মধ্যে শক্তি চট্টোপাধ্যায় অন্যতম।

১৯৮২ সালে প্রকাশিত তার যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো কাব্যগ্রন্থ ইংরেজি এবং মৈথিলী ভাষায় অনুদিত হয়েছে। ১৯৮৩ সালে কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি পূর্ণেন্দু পত্রী পরিচালিত ছেঁড়া তমসুখ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

 

অবনী বাড়ি আছো কবিতা – শক্তি চট্টোপাধ্যায়

 

অবনী বাড়ি আছো
অবনী বাড়ি আছো
দুয়ার এঁটে ঘুমিয়ে আছে পাড়া
কেবল শুনি রাতের কড়ানাড়া
‘অবনী বাড়ি আছো?’

বৃষ্টি পড়ে এখানে বারোমাস
এখানে মেঘ গাভীর মতো চরে
পরাঙ্মুখ সবুজ নালিঘাস
দুয়ার চেপে ধরে–
‘অবনী বাড়ি আছো?’

আধেকলীন হৃদয়ে দূরগামী
ব্যথার মাঝে ঘুমিয় পড়ি আমি
সহসা শুনি রাতের কড়ানাড়া
‘অবনী বাড়ি আছ?’

অবনী বাড়ি আছো কবিতা ব্যাখ্যাঃ

অবনী বাড়ি আছো কবিতাটি এক বর্ষামুখর রাতের কবিতা, যেখানে কবি নিজেকেই অবনী চরিত্র রূপে প্রকাশ করেছেন। তবে এ কবিতা রচনা প্রসঙ্গে শক্তি বলেছেন, নির্জন বাড়িতে মহুয়ার বোতলকে সঙ্গী করে কবি যখন সামনে মেঘদূত মালাকে দেখলেন তখন তার মনে হলো অসংখ্য গরু যেন যাত্রা করেছে। মেঘেরা গাভির মতো চড়ে বেড়াচ্ছে। অবনী দুয়ার এঁটে ঘুমিয়েছে, কে বা কারা যেন তার দরজার কড়া নাড়ছে। কে যেন তাকে ডাকছে আয় আয়। অবনী যেতে চায় নি। অবনী বলছে তুমি আমায় ডাকছো আমি চলে যেতে পারি। কিন্তু কেনো যাবো? আমারতো একটা ছোটো শিশুসন্তান রয়েছে, ওর মুখ ধরে চুমু খাবো। এই যে পারিবারিক মায়া-মমতা কবিকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখতে চাচ্ছে।

পরক্ষণেই হয়ত কবি আবার বুঝতে পারলেন যে, সে ইচ্ছে করলেই থাকতে পারবে না। চলে তার যেতে হবে। কোনো মমতার বন্ধন সন্তানের লাবণ্যময় মুখ তাকে আঁকড়ে রাখতে পারবে না। এ সব ভেবে কবি আবার বললেন, আমি যাবো কিন্তু এখনি যাবো না।

 

অবনী বাড়ি আছো কবিতা আবৃত্তিঃ

 

 

Leave a Comment