“শ্রীকান্ত” শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত এক মহাকাব্যিক উপন্যাস, যা চার খণ্ডে প্রকাশিত হয় (প্রথম খণ্ড ১৯১৭, শেষ খণ্ড ১৯৩৩ সালে)। এটি অনেকাংশে আত্মজৈবনিক ধাঁচের, যেখানে শ্রীকান্ত নামের এক যুবকের ভ্রমণ, জীবনের অভিজ্ঞতা, প্রেম, বন্ধুত্ব ও সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে। এই উপন্যাসে বহু নারী চরিত্র রয়েছে, যেমন — রাজলক্ষ্মী, অভয়া, পিয়ারি ও রোহিনী।
Table of Contents
রোহিনী কোন উপন্যাসের নায়িকা?
রোহিনীর আবির্ভাব
রোহিনী চরিত্রটি উপন্যাসের তৃতীয় খণ্ডে দেখা যায়। সে গল্পে এক বিশেষ আবেগঘন ও রহস্যময় চরিত্র হিসেবে আসে।
রোহিনী ছিলেন এক যুবতী বিধবা।
তিনি সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বে অনন্যা, কিন্তু জীবনে প্রচুর দুঃখ ও কষ্ট সহ্য করেছেন।
জীবনের অভিজ্ঞতা ও সামাজিক অবহেলার কারণে তাঁর স্বভাব কিছুটা কঠোর ও আত্মরক্ষামূলক হয়ে ওঠে।
চরিত্র বৈশিষ্ট্য
সাহসী ও আত্মপ্রত্যয়ী: রোহিনী নিজের জীবন ও সিদ্ধান্তের দায়িত্ব নিজে নিতে অভ্যস্ত।
রহস্যময়তা: তাঁর অতীত পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, যা শ্রীকান্ত ও পাঠকের কাছে কৌতূহল তৈরি করে।
আবেগপ্রবণতা: অন্তরে প্রচণ্ড আবেগ থাকলেও তিনি তা সহজে প্রকাশ করেন না।
সামাজিক প্রতিবাদী মনোভাব: নারীর স্বাধীনতা ও আত্মসম্মান রক্ষায় তিনি সমাজের প্রচলিত নিয়মের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে দ্বিধা করেন না।
শ্রীকান্তের সঙ্গে সম্পর্ক
রোহিনীর সঙ্গে শ্রীকান্তের পরিচয় হয় ভ্রমণকালে। তাদের সম্পর্কের মধ্যে একধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক এবং আবেগীয় যোগাযোগ গড়ে ওঠে।
রোহিনী শ্রীকান্তকে বন্ধু ও আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গ্রহণ করেন।
তবে এই সম্পর্ক কখনোই প্রচলিত প্রেমের সম্পর্ক নয়; বরং তা গভীর সহানুভূতি, শ্রদ্ধা ও জীবনদর্শনের মিলন।
রোহিনীর প্রতীকী তাৎপর্য
শরৎচন্দ্র রোহিনী চরিত্রের মাধ্যমে দেখিয়েছেন:
সামাজিক বিধিনিষেধের মধ্যে নারীর বেঁচে থাকার সংগ্রাম
নিজস্ব মর্যাদা ও স্বাধীনতার সন্ধান
পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর আত্মমর্যাদার লড়াই
রোহিনী কেবল একটি চরিত্র নয়, বরং সেই সময়ের বাঙালি নারীর এক শক্তিশালী প্রতীক, যে দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও নিজের সত্তাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে চায়।
পাঠকের মনে রোহিনী
“শ্রীকান্ত” উপন্যাসে রাজলক্ষ্মীর মতোই রোহিনী পাঠকের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। তাঁর বুদ্ধিমত্তা, আত্মসম্মানবোধ এবং জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম স্মরণীয় নায়িকাদের কাতারে স্থান দিয়েছে।
সারসংক্ষেপ:
রোহিনী হলেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের “শ্রীকান্ত” উপন্যাসের এক শক্তিশালী ও আবেগঘন নায়িকা, যিনি সাহস, আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রতীক। তিনি তৃতীয় খণ্ডে উপস্থিত হলেও তাঁর প্রভাব পুরো উপন্যাসজুড়ে অনুভূত হয়।