মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর “সেক্টর কমান্ডারদের নাম” ও সম্পৃক্ত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর, সেক্টর কমান্ডারদের নাম, সেক্টর কমান্ডারদের নাম মনে রাখার সহজ উপায় ও সম্পৃক্ত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পৃক্ত বিষয়গুলো বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে। আমরা সহজ মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর এসব সেসব সেক্টরের সেক্টর কমান্ডারদের নাম মনে রাখার সহজ উপায় নিয়ে ক্লাসটি নিয়েছি |
সেই সাথে আরও কিছু আলোচনা হয়েছে, যেমন ১০ নং সেক্টরে কোনো কমান্ডার ছিল না। কিন্তু কেনো? আবার কোনো সেক্টরে দুইজন কমান্ডার ছিল। তাদের পরিচয় আপনি জানেন? এ সম্পর্কিত সকল প্রয়োজনীয় ও মজার তথ্যের উত্তর দেয়া হয়েছে “মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর” নামক ক্লাসটিতে । প্রতিযোগীমূলক পরীক্ষার “সাধারণ জ্ঞান(General Knowledge)” এর , “বাংলাদেশ বিষয়াবলী (Bangladesh Affairs)” অংশের প্রশ্ন হিসেব এখান থেকে প্রশ্ন আসে।
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর
১৯৭১ সালে সংগঠিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচলনায় অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের সমগ্র ভূখণ্ডকে ১১টি যুদ্ধক্ষেত্র বা সেক্টরে ভাগ করা হয়। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে বাংলাদেশের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর আক্রমণ প্রতিরোধ করতে গিয়ে। চট্টগ্রামের ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট বিদ্রোহ ঘোষণা করত পাকিস্তানি সামরিক অফিসারদের বন্দি ও হত্যা করলে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সূত্রপাত হয়।

৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট বিদ্রোহের অব্যবহিত পর চট্টগ্রামের ইপিআর-এর বাঙালি অফিসার ও জওয়ানরা অস্ত্র তুলে নিয়ে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালাতে থাকে। পরবর্তী কয়েক দিনে পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে বাঙালি সেনা, ইপিআর ও পুলিশ সদস্যরা পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনাতে আক্রমণ পরিচালনা করে। প্রত্যুত্তরে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীও পাল্টা আক্রমণ চালায়। যেমন, বাঙালি সেনাদের আয়ত্তাধীন চট্টগ্রামের কালুরঘাট, যেখানে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ছিল, তা আক্রমণ করে মুক্তিযোদ্ধাদের হটিয়ে দেয় পাকবাহিনী।
এভাবে সীমানার অভ্যন্তরে বিভিন্ন মুক্ত স্থানেে আক্রমণ চালিয়ে দখল করে নেয় পাকবাহিনী। ফলে কৌশলগত কারণে মুক্তিযোদ্ধারা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে আশ্রয় গ্রহণ করে। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ বাঁচানো তাগিদে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। তাদের একটি অংশ সেনা সদস্যদের সঙ্গে যোগ দিলে মুক্তিবাহিনীর বহর দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
ভারতের সীমান্ত পার হয়ে পূর্ব পাকিস্তানের অভ্যন্তরে এসে ঝটিকা আক্রমণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ চলতে থাকে। এতে একদিকে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সেনারা মারা পড়ছিল, অন্যদিকে পাকিস্তানিদের অস্ত্র-শস্ত্র, গোলাবারুদ, রসদপাতি কেড়ে করা সম্ভব হচ্ছিল।
কিন্তু ইতোমধ্যেই মুক্তিবাহিনীর অভিজ্ঞ সেনা কর্মকর্তারা অনুধাবন করতে সক্ষম হন যে এ রকম বিচ্ছিন্ন আক্রমণ ও প্রতিআক্রমণের মধ্য দিয়ে সুশিক্ষিত ও সুসজ্জিত পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর পতন ঘটানো সম্ভবপর হবে না। তাই তারা সংগঠিত ভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমত, দেশটিকে বিভিন্ন এলাকায় ভাগ করে সামরিক নেতা নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিবাহিনীর সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা, উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং অস্ত্রশস্ত্র গোলাবারুদ সংগ্রহ করা এবং, সর্বোপরি, যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরূদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করা। স্থলভাগের আক্রমণ ছাড়াও পরবর্তীকালে নৌ আক্রমণের জন্য একটি ইউনিট গঠন করা হয়। আরো পরে বিমান আক্রমণের জন্য একটি ইউনিট গঠন করা হয়।
