বাক্যের রূপান্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।যারা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি ক্লাস করছেন (University Admission Class) বা চাকুরীর পরীক্ষার বাংলা (Job Preparation Bangla) প্রস্তুতি নিচ্ছেন (যেমন : বিসিএস এর বাংলা (BCS Preparation Bangla) প্রস্তুতি, ব্যাংকে চাকরির বাংলা (Bank job preparation bangla) প্রস্তুতি) নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই ভিডিওটি খুবই সহায়ক হবে। বাক্যের রূপান্তর এ সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তর, জটিল বাক্যকে মিশ্র বাক্যে কিংবা মিশ্র বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর করা যায় – এই নিয়ে আলোচনা করেছেন নাহিয়ান বিন খালেদ (Nahian Bin Khaled)।
বাক্যের রূপান্তর
বাক্যের রূপান্তর বা বাক্য পরিবর্তনের পদ্ধতি :-
বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে যে বাক্য পরিবর্তনে ভাষারীতি ও ক্রিয়ার কালের কোনো পরিবর্তন হবে না ।
(১) সরল বাক্য থেকে জটিল বা যৌগিক বাক্যে পরিবর্তনের কয়েকটি নিয়ম বা বৈশিষ্ট্য আছে । সেগুলি হল—
(ক) সরল বাক্যের অসমাপিকা ক্রিয়া যৌগিক ও জটিল বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়ায় পরিণত হবে । যেমন —

* সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর —
(i) মন দিয়ে পড়লে পাস করবে (সরল বাক্য) । যদি মন দিয়ে পড়, তবে পাস করবে (জটিল বাক্য) ।
(ii) নতুন মেসোকে দেখে তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল (সরল- বাক্য) । যখন নতুন মেসোকে দেখল তখন তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল (জটিল বাক্য) ।
* সরল থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর —
(i) আকাশে মেঘ থাকলেও বৃষ্টি হচ্ছে না (সরল বাক্য) । আকাশে মেঘ আছে কিন্তু বৃষ্টি হচ্ছে না (যৌগিক বাক্য) ।
(ii) ধনী হলেও তাঁর অহংকার নেই (সরল বাক্য) । তিনি ধনী ছিলেন, তবু তাঁর অহংকার নেই (যৌগিক বাক্য) ।
(২) জটিল বা যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম :-
জটিল বা যৌগিক বাক্যে যে সমাপিকা ক্রিয়াগুলি থাকে তার মধ্যে প্রধান সমাপিকা ক্রিয়াকে রেখে বাকি ক্রিয়াগুলিকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় পরিণত করতে হবে । যেমন —
(i) তিনি দরিদ্র ছিলেন কিন্তু তিনি সৎ ছিলেন (যৌগিক বাক্য) । তিনি দরিদ্র হলেও সৎ ছিলেন (সরল- বাক্য) ।
(ii) যখন তুমি ফিরবে তখন তোমায় টাকা দেব (জটিল বাক্য) । তুমি ফিরলে পর তোমাকে টাকা দেব (সরল -বাক্য) ।
(iii) যিনি তপনের নতুন মেসো মশাই তিনি একজন লেখক (জটিল বাক্য) । তপনের নতুন মেসো মশাই একজন লেখক (সরল -বাক্য) ।
(iv) ওঁর শান্ত গলা শুনে ওদের চিন্তা হল (সরল বাক্য) । ওঁর শান্ত গলা শুনল এবং ওদের চিন্তা হল ( যৌগিক বাক্য ) । যখন ওঁর শান্ত গলা শুনল তখন ওদের চিন্তা হল ( জটিল বাক্য ) ।
♦ অর্থগত শ্রেণীবিভাগের ক্ষেত্রে বাক্যের পরিবর্তন :-
এক্ষেত্রেও মনে রাখতে হবে বাক্যের অর্থের কোনো পরিবর্তন করা যাবে না, ভাষারীতির পরিবর্তন হবে না এবং ক্রিয়ার কালের ও পরিবর্তন হবে না । এখন বাকি নিয়মগুলি কি আছে তা দেখা যাক ।
(১) ইতিবাচক বাক্য থেকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর —এক্ষেত্রে নেতিবাচক বাক্যে না, নয়, নহে ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করা হয়, আর ইতিবাচক বাক্যের ক্ষেত্রে বিপরীত শব্দের ব্যবহার হয় । যেমন—
(i) তোমার আগে আসা উচিত ছিল (ইতিবাচক বাক্য) । তোমার দেরি করে আসা উচিত হয়নি (নেতিবাচক বাক্য) ।
(ii) এ জগতে কেউ অমর নয় (নেতিবাচক বাক্য) । এ জগতে সকলেই মরণশীল (ইতিবাচক বাক্য) ।
(২) নির্দেশক বাক্য থেকে প্রশ্নবাচক বাক্যে পরিবর্তন— এক্ষেত্রে বাক্যটি ইতিবাচক থাকলে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হবে এবং প্রশ্নসূচক শব্দ কী, কি, কে, কেন ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করতে হবে এবং প্রশ্ন চিহ্ন (?) ব্যবহার করতে হবে । যেমন —
(i) চোরকে কেউ বিশ্বাস করে না (নির্দেশক বাক্য) । চোরকে কে বিশ্বাস করে ? (প্রশ্নবাচক বাক্য )
(ii) ভালো শিক্ষক পাওয়া নিতান্ত সৌভাগ্যের কথা (নির্দেশক বাক্য) । ভালো শিক্ষক পাওয়া কি সৌভাগ্যের কথা নয় ? (প্রশ্ন বাচক বাক্য) ।

(৩) প্রশ্নবাচক বাক্য থেকে নির্দেশক বাক্যে পরিবর্তন—
(i) কে না ভুল করে ? (প্রশ্নবাচক বাক্য) ভুল সকলেই করে (নির্দেশক বাক্য) ।
(ii) সত্য কথা বলতে দোষ কী ? (প্রশ্নবাচক বাক্য) । সত্য কথা বলতে দোষ নেই (নির্দেশক বাক্য) ।
(iii) আমরা কি সরকারের লোক নই ? (প্রশ্নবাচক বাক্য) । আমরা তো সরকারের লোক (নির্দেশক বাক্য) ।
