ধ্বনি পরিবর্তন | বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, বিসিএস প্রস্তুতি

ধ্বনি পরিবর্তন বাংলা ব্যাকরণে “ধ্বনি পরিবর্তন” একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । ভিডিওতে সহজে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে “ধ্বনি পরিবর্তন মনে রাখার কৌশল”। আলোচনায় এসেছে আদি স্বরাগম, মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি। ২টি পর্বের এই ক্লাসে আলোচনা হয়েছে অন্ত্যস্বরাগম, অপিনিহিতি, অসমীকরণ, স্বরসঙ্গতি, সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ, ধ্বনি বিপর্যয়, সমীভবন, বিষমীভবন, দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বতা, ব্যঞ্জন বিকৃতি, ব্যঞ্জনচ্যুতি, অন্তর্হতি, অভিশ্রুতি, র-কার লোপ, হ-কার লোপ, অ-শ্রুতি ও ব-শ্রুতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে।

 

ধ্বনি পরিবর্তন

ধ্বনির পরিবর্তন ১৬ ভাবে করা যায়।

স্বরাগম

আদি স্বরাগম / Prosthesis

উচ্চারণের সুবিধার জন্য বা অন্য কোনো কারণে শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে বলে আদি স্বরাগম। যেমন: স্কুল > ইস্কুল, স্টেশন > ইস্টিশন।

 

bangla bekaron ধ্বনি পরিবর্তন | বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, বিসিএস প্রস্তুতি

 

মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি / Anaptyxis

সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি। যেমন:

  • অ: রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ।
  • ই: প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম।

অন্ত্যস্বরাগম / Apotheosis 

কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম। যেমন: দিশ > দিশা, পোখত্ > পোক্ত, বেঞ্চ > বেঞ্চি, সত্য > সত্যি।

অপিনিহিতি

পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে, তাকে অপিনিহিতি বলে। যেমন: আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য।

অসমীকরণ

একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয়, তখন তাকে বলে অসমীকরণ। যেমন: ধপ + ধপ > ধপাধপ, টপ + টপ > টপাটপ।

স্বরসঙ্গতি

একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। যেমন: দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো।

প্রগত স্বরসঙ্গতি

আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে তাকে প্রগত স্বরসঙ্গতি বলা হয়। যেমন: মূলা > মূলো, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো।

স্বরসঙ্গতি

অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন: আখো > আখুয়া > এখো।

মধ্যগত স্বরসঙ্গতি

আদ্যস্তর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন: বিলাতি > বিলিতি।

ধ্বনির পরিবর্তন

  • আদ্য ও অন্ত্য – দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন: মোজা > মুজো।
  • পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়। যেমন: মুড়া > মুড়ো, চুলা > চুলো।
  • বিশেষ নিয়মে উড়–নি>উড়নি, এখনি> এখুনি হয়।

সম্প্রকর্ষ 

দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ । যেমন: বসতি > বসইত, জানালা > জান্লা।

 

আদি স্বরলোপ / Aphesis :

যেমন: অলাবু > লাবু > লাউ, উদ্ধার > উধার > ধার।

মধ্য স্বরলোপ / Syncope:

অগুরু > অগ্রু, সুবর্ণ > স্বর্ণ।

অন্ত্য স্বরলোপ / Apocope :

আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা), সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।

ধ্বনি বিপর্যয়

শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। যেমন: ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক, জাপানি রিক্সা > বাংলা রিস্কা।

সমীভবন

শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন । যেমন: জন্ম > জম্ম, কাঁদনা > কান্না।

প্রগত সমীভবন

পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতো হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন। যেমন: চক্র > চক্ক, পকৃ > পক্ক, পদ্ম > পদ্দ, লগ্ন > লগ্গ।

পরাগত সমীভবন 

পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন । যেমন: তৎ + জন্য > তজ্জন্য, তৎ + হিত > তদ্ধিত, উৎ + মুখ > উন্মুখ।

অন্যোন্য সমীভবন

যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয়, তখন তাকে বলে অন্যোন্য সমীভবন। যেমন: সংস্কৃত-সত্য > প্রাকৃত-সচ্চ, সংস্কৃত-বিদ্যা > প্রাকৃত-বিজ্জা।

দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জন-দ্বিত্ব

  • দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে। যেমন: শরীর > শরীল, লাল > নাল।
  • কখনো কখনো জোর দেওয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে বলে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব। যেমন: পাকা > পাক্কা, সকাল > সক্কাল।

ব্যঞ্জন বিকৃতি

শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। যেমন: কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা, ধাইমা > লাইমা।

ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি

পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয়, ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি। যেমন: বউদিদি > বউদি, বড় দাদা > বড়দা।

 

ধ্বনি পরিবর্তন

 

অন্তর্হতি

পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি। যেমন: ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাহিদা > আলাদা।

অভিশ্রুতি

বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে, তাকে বলে অভিশ্রুতি। যেমন: ‘করিয়া’ থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া’ কিংবা বিপর্যয়ের ফলে ‘কইরা’ থেকে অভিশ্রুতিজাত ‘করে’।

 

ধ্বনি পরিবর্তন নিয়ে বিস্তারিত :

Leave a Comment