ধাতু নিয়ে বিস্তারিত | বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, বিসিএস প্রস্তুতি

ধাতু নিয়ে বিস্তারিত বাংলা ব্যাকরণে “ধাতু” একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । আলোচনা করা হয়েছে বাংলা ও সংস্কৃতি ধাতু নিয়ে। পাঠ শেষে শিক্ষার্থীরা “ধাতু” এর সংজ্ঞা ব্যাখ্যা করতে পারবে। আলোচনায় এসেছে মৌলিক ধাতু, সাধিত ধাতু এবং সংযোগমূলক ধাতু। বাংলা ব্যাকরণ “ধাতু” বিষয়ক জানাশোনা জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজে লাগবে।

মাধ্যমিক (SSC) ও উচ্চমাধ্যমিক (HSC) স্তর ছাড়াও, বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি (যেমন – বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ক্লাস (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Dhaka University) , জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (Jahangirnagar University)), বিসিএস প্রস্তুতি (BCS Preparation)) এর প্রস্তুতি নিতে এই বিষয়টি জানতে হবে। কঠিনতম এই বিষয়টি সহজভাবে বোঝার জন্য দেখে ফেলতে হবে এই ক্লাসটি।

 

ধাতু নিয়ে বিস্তারিত

 

ব্যাকরণ শাস্ত্রে, ক্রিয়ামূল বলতে ক্রিয়াপদের অবিভাজ্য বা মূল অংশের অন্তর্নিহিত ভাবটির দ্যোতনা করে অথবা বিশ্লেষণ করা যায় না এ রকম যে ক্ষুদ্রতম ধ্বনিসমষ্টি ক্রিয়ার বস্তু বা গুণ বা অবস্থানকে বুঝায়। ক্রিয়ামূলকে ধাতুও বলে। ক্রিয়ামূল বা ধাতু নির্দেশ করতে মূল শব্দের পূর্বে “√” করণী চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।

 

ধাতু নিয়ে বিস্তারিত

 

প্রকারভেদ

ক্রিয়ামূল বা ধাতু প্রধানত তিন প্রকার।

  • মৌলিক ধাতু
    • বাংলা ধাতু
    • সংস্কৃত ধাতু
    • বিদেশি ধাতু
  • সাধিত ধাতু
    • নাম ধাতু
    • প্রযোজক ধাতু বা ণিজন্ত ধাতু
    • কর্মবাচ্যের ধাতু
  • যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু
    • বিশেষ্যের সাথে যুক্ত হওয়া ধাতু
    • বিশেষণের সাথে যুক্ত হওয়া ধাতু
    • ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সাথে যুক্ত হওয়া ধাতু

মৌলিক বা সিদ্ধ ধাতু

যেসকল ধাতুকে ভাঙা বা বিশ্লেষণ করা যায় না তাদের মৌলিক বা সিদ্ধ ধাতু বলে। উদাহরণ: √কর্‌, √চল, √দেখ্‌, √খেল,√পড়, √খা।

উৎস বিবেচনায় মৌলিক ধাতুগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়: (ক) বাংলা ধাতু (খ) সংস্কৃত ধাতু এবং (গ) বিদেশি ধাতু

সাধিত ধাতু

কোনো মৌলিক ধাতু কিংবা নাম শব্দের সাথে আ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ধাতু গঠিত হয় তাকে সাধিত ধাতু বলে। উদাহরণ: √কর + আ = √করা, √দেখ্‌ + আ = √দেখা, √পড়্+আ= √পড়া।

সংযোগমূলক বা যৌগিক ধাতু

বিশেষ্য , বিশেষণ ও ধ্বনাত্বক অব্যয়ের সাথে √কর্, √দে, √হ, √পা ইত্যাদি মৌলিক ধাতু যুক্ত হয়ে যে ধাতু গঠন করে তাকে সংযোগমূলক বা যৌগিক ধাতু বলে। উদাহরণ: পূজা কর্‌, রাজি হ, কষ্ট পা, শাস্তি দে।

 

অন্যান্য ধাতুসমূহ

নাম ধাতু

নাম শব্দ অর্থাৎ বিশেষ্য, বিশেষণ, অব্যয় প্রভৃতি শব্দ কখনও কখনও প্রত্যয়যোগে, কখনওবা প্রত্যয় যুক্ত না হয়ে ক্রিয়ারূপে ব্যবহৃত হয়, এ ধরনের ক্রিয়ার মূলকে নাম ধাতু বলে। উদাহরণ: জুতা > জুতানো, বেত > বেতানো, হাত > হাতানো, বাঁকা > বাঁকানো।

ণিজন্ত বা প্রযোজক ধাতু

মৌলিক ধাতুর সাথে ‘আ’ বা ‘ওয়া’ যুক্ত হয়ে ণিজন্ত বা প্রযোজক ধাতু গঠিত হয়। উদাহরণ: √কর + আ =করা। যা কিছু হারায় , গিন্নী বলেন, “কেষ্টা বেটাই চোর”, এখানে হারায় হলো প্রযোজক ধাতু। এটা এক ধরনের সাধিত ধাতু।

 

ধ্বন্যাত্মক ধাতু

ধাতুরূপে ব্যবহৃত অনুকার (অনুকার = সাদৃশ্যকরণ, অনুকরণ) ধ্বনিকে ধ্বন্যাত্মক ধাতু বলে। উদাহরণ: ফোঁসা, হাঁপা, মচ্‌মচা, টল্‌টলা।

নঞ্‌র্থক ধাতু

“অস্তি” বাচক √হ ধাতুর পূর্বে নঞ্‌র্থক ‘ন’ শব্দের যোগে গঠিত √নহ্‌ ধাতুকে নঞ্‌র্থক ধাতু বলে। উদাহরণ: নহি, নই, নহ, নও, নহে, নয়।

 

ধাতু নিয়ে বিস্তারিত :

Leave a Comment