“তোমাকে অভিবাদন বাংলাদেশ” সৈয়দ শামসুল হকের একটি অনবদ্য দেশপ্রেমমূলক কবিতা, যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতার আনন্দ ও আত্মত্যাগের গৌরবকে গভীরভাবে ধারণ করে। কবিতায় কবি মাতৃভূমিকে উদ্দেশ করে এক অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন, যেখানে বাংলার মাটি, মানুষ, ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি গর্ব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতা, শহীদদের ত্যাগ এবং স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস কবিতার প্রতিটি পংক্তিতে অনুরণিত হয়েছে। এই রচনায় কবি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতি এক চিরন্তন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, যা পাঠকের মনে দেশপ্রেমের উজ্জ্বল শিখা জ্বালিয়ে তোলে।
তোমাকে অভিবাদন, বাংলাদেশ – সৈয়দ শামসুল হক
তোমাকে অভিবাদন, বাংলাদেশ,
তুমি ফিরে এসেছ তোমার মানচিত্রের ভেতরে
যার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তেরো শো নদীর ধারা ;
তোমাকে অভিবাদন, বাংলাদেশ,
তুমি ফিরে এসেছ তোমার করতলে পাঙরাটির বুকে
যার ডানা এখন রক্ত আর অশ্রুতে ভেজা ;
তোমাকে অভিবাদন, বাংলাদেশ,
তুমি ফিরে এসেছ তোমার বৃষ্টিভেজা খড়ের কুটিরে
যার ছায়ায় কত দীর্ঘ অপেক্ষায় আছে সন্তান এবং স্বপ্ন ;
তোমাকে অভিবাদন, বাংলাদেশ,
তুমি ফিরে এসেছ তোমার তোমার নৌকার গলুইয়ে
যার গ্রীবা এখন ভবিষ্যতের দিকে কেটে চলেছে স্রোত ;
তোমাকে অভিবাদন, বাংলাদেশ,
তুমি ফিরে এসেছ তোমার মাছধরা জালের ভেতরে
যেখানে লেজে মারছে বাড়ি একটা রুপালী চিতল ;
তোমাকে অভিবাদন, বাংলাদেশ,
তুমি ফিরে এসেছ তোমার হালের লাঙলের ভতরে
যার ফাল এখন চিরে চলেছে পৌষের নবান্নের দিকে ;
তোমাকে অভিবাদন, বাংলাদেশ,
তুমি ফিরে এসেছ তোমার নেহাই ও হাতুড়ির সংঘর্ষের ভতরে
যার একেকটি স্ফুলিঙ্গে এখন আগুন ধরছে অন্ধকারে ;
তোমাকে অভিবাদন, বাংলাদেশ,
তুমি ফিরে এসেছ তোমার কবিতার উচ্চারণে
যার প্রতিটি শব্দ এখন হয়ে উঠছে বল্লমের রুপালী ফলা ;
তোমাকে অভিবাদন, বাংলাদেশ,
তুমি ফিরে এসেছ তোমার দোতারার টান টান তারের ভেতরে
যার প্রতিটি টঙ্কার এখন ইতিহাসকে ধ্বনি করছে ;
তোমাকে অভিবাদন, বাংলাদেশ,
তুমি ফিরে এসেছ তোমার লাল সূর্য্ আঁকা পতাকার ভেতরে
যার আলোয় এখন রঞ্জিত হয়ে উঠছে সাহসী বদ্বীপ ;
তোমাকে অভিবাদন, বাংলাদেশ,
তুমি ফিরে এসেছ তোমার অনাহারী শিশুটির কাছে
যার মুঠোর ভেতরে এখন একটি ধানের বীজ ;
তোমাকে অভিবাদন, বাংলাদেশ,
তুমি ফিরে এসেছ তোমার প্লাবনের পর কোমল পলিমাটিতে
যেখানে এখন অনবরত পড়ছে কোটি কোটি পায়ের ছাপ ।
তোমাকে অভিবাদন বাংলাদেশ কবিতা আবৃত্তি ঃ
