একজন বীরশ্রেষ্ঠ রচনা । Essay on A hero । প্রতিবেদন রচনা ও সাধারণ জ্ঞান প্রশ্নোত্তর

একজন বীরশ্রেষ্ঠ রচনা: বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অগ্নিঝরা সে ডাকে উদ্বেলিত হয়েছিল বাংলার মানুষ। পাকিস্তানের বৈষম্য, নিপীড়ন, অত্যাচার, দস্যুতা আর সম্পদ পাচারের সীমাহীন অন্যায় থেকে চিরতরে বাঁচার জন্য শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ। সশস্ত্র যুদ্ধে আমাদের মুক্তিসেনারা প্রাণ দেন।

একজন বীরশ্রেষ্ঠ রচনা

ভূমিকা:

বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ। আগে এই দেশ পশ্চিম পাকিস্তানের অধীনে ছিল। কিন্তু ১৯৭১ সালে সশস্ত্র স্বাধীনতাসংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের এই স্বাধীনতা অর্জন করেছি। মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের অনেক মানুষ জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন।১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ ত্যাগকারীদের মধ্যে সাতজনকে জাতি সর্বোচ্চ সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করে।

বীরশ্রেষ্ঠদের পরিচয় :

দেশ আর দেশের স্বাধীনতাই যাঁদের কাছে বড় ছিল, বাংলাদেশ শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় তাঁদের দিয়েছে বীরের সম্মান। এই বীরশ্রেষ্ঠরা হলেন-

১. বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ

২. বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ

৩. বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন

৪. বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান

৫. বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল

৬. বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ও

৭. বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর।

এই বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে একজনের পরিচয় তুলে ধরা হলো।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মুন্সী আব্দুর রউফ

বীর মুক্তিযোদ্ধা মুন্সী আব্দুর রউফ

জন্ম ও পরিচয়:

মুন্সী আব্দুর রউফ ১৯৪২ সালের ১লা মে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানার সালামতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম মুন্সী মেহেদী হাসান এবং মায়ের নাম মুকিদুন্নেসা। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে তিনি সৈ-নিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধে অবদান:

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈনিকদের মতো তিনিও মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১৯৭১ সালের ৮ই এপ্রিল মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি নৌবাহিনীকে আক্রমণের জন্য মহালছড়ির কাছে বুড়িঘাট এলাকার চিংড়ি খালের দুই পাশে অবস্থান নেয়।

পাকিস্তানি সেনারা সাতটি স্পিডবোট আর দুটি মোটর লঞ্চ নিয়ে স্বল্পসংখ্যক মুক্তিযোদ্ধার ওপর আক্রমণ করে। মৃত্যু অবধারিত জেনেও তাঁরা রণক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে যাননি। আব্দুর রউফ নিজেই দায়িত্ব নিলেন নিজের জীবন দিয়ে সবাইকে রক্ষা করার। হালকা একটা মেশিনগান নিয়ে শত্রুসেনাদের রুখে দিতে থাকলেন।

সহযোদ্ধাদের বললেন নিরাপদে সরে যেতে। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মিলিত আক্রমণে পাকিস্তানিদের সাতটি স্পিডবোটই ডুবে গেল এবং অনেকে মারা গেল। বাকি লঞ্চ দুটো গোলাবর্ষণ আর গুলি ছুড়তে ছুড়তে তারা পিছু হটতে থাকল। এ রকম মুহূর্তেই হঠাৎ একটা গোলা এসে পড়ল তাঁর ওপর, তিনি শহীদ হলেন। তাঁর পবিত্র রক্তে রঞ্জিত হলো এ দেশের মাটি। এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাঙামাটির বোর্ড বাজারে সমাহিত করা হয়। সেখানে তিনি অন্তিম শয়ানে শায়িত আছেন।

উপসংহার:

লাখো প্রাণের বিনিময়ে, বীরের রক্তস্রোত আর মাতার অশ্রুধারায় স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছে বাংলাদেশের। দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর এ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করেন। আমরা তাঁকে চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করব।

Leave a Comment